রাজধানীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হঠাৎ করা মিছিল ও বিক্ষোভের ঘটনায় গত এক সপ্তাহে ৫৬ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদের সবার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা:
গত বছর (২০২৪) অক্টোবর মাসে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপরও sporadic বা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কয়েকটি ঝটিকা মিছিলের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। সূত্র বলছে, সংগঠনের কিছু অংশ বিচ্ছিন্নভাবে এসব কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলছে।
রাজধানীতে একের পর এক মিছিল:
সম্প্রতি ধানমন্ডি ও মিরপুর এলাকায় কয়েকটি ছোট মিছিল নজরে আসে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের একটি ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কয়েকজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে, ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের কাছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি মিছিলেও উত্তেজনা দেখা দেয়, যেখানে সাধারণ মানুষের সহায়তায় তিনজনকে আটক করা সম্ভব হয়।
জেলা পর্যায়েও অভিযান:
রাজধানীর বাইরে, নেত্রকোণার পূর্বধলায় ছাত্রলীগের একটি মিছিল পুলিশের নজরে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে স্থানীয় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান:
পুলিশ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের যে কোনো ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে রাজধানী ও অন্যান্য শহরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন বিচ্ছিন্ন তৎপরতা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। তাদের মতে, সময়মতো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
উপসংহার:
রাজধানী ঢাকা এখনো রাজনৈতিক দোলাচলের মধ্যে আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা কঠোর অবস্থান নেবে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করবে।
Leave a Reply