রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত মিল্লাত ক্যাম্পে এখন মাদক ব্যবসা হয়ে উঠেছে রীতিমতো একটি শিল্প। এখানকার মাদক সিন্ডিকেট শুধু সংগঠিতই নয়, বরং নারীপ্রধান এবং পরিবারভিত্তিক। প্রকাশ্যে চলে মাদকের বেচাকেনা, সেলসম্যান নিয়োগ, আর তা পাহারা দেয় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী।
সূত্র জানায়, মিল্লাত ক্যাম্পের প্রতিটি গলিতেই রয়েছে মাদক কারবারিদের ঘাঁটি। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো- এখানে নারীরাই এই ব্যবসার নেতৃত্ব দিচ্ছে। এদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা রয়েছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
“আনোয়ারী” মিল্লাত ক্যাম্পের কুখ্যাত মাদক রানী ও আতঙ্কের নাম!
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আনোয়ারী ও তার পরিবার দাপটের সঙ্গেই চালাচ্ছেন সবধরনের মাদক ব্যবসা। তার রয়েছে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী, যারা তার জন্য পাহারার কাজ করে। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে তার সেলসম্যানদের নেটওয়ার্ক। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো— তার পরিবারের প্রতিটি সদস্যই এই ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তারা হলেন, আনোয়ারীর ছেলে ওয়াহিদ, শাহিদ, আনোয়ারীর ভাগনী সায়মা, সাম্মি, আত্মীয় মাসাআলী ও সেলসম্যানদের সরদার মাহতাব। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তারা কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। কারণ, আনোয়ারী বাহিনী শুধু ভয় দেখায় না, প্রয়োজনে হুমকি কার্যকর করতেও দ্বিধা করে না।
পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পল্লবী থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “মিল্লাত ক্যাম্পে অভিযান চালাতে গেলে আমরা প্রতিরোধের মুখে পড়ি। চক্রটি এতটাই সংঘবদ্ধ যে, পুলিশ সদস্যরাও আতঙ্কে থাকে।” অনুসন্ধানে উঠে আসে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের মদদেই এই চক্র বছরের পর বছর ধরে টিকে আছে। ফলে অভিযানের পরও কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসছে না।
“দ্য ক্রাইম সার্চ” এর অনুসন্ধান এখানেই শেষ নয়। মিল্লাত ক্যাম্পের এই মাদক চক্র কীভাবে রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় প্রভাব ফেলছে, কারা রয়েছে এই সিন্ডিকেটের পেছনে—তা নিয়ে শিগগিরই প্রকাশিত হবে পরবর্তী পর্ব।
Leave a Reply