কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভারতীয় পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ এক সন্ত্রাসী হামলার পর নয়াদিল্লি দায় চাপায় পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের ওপর। এর জবাবে ভারত চালায় পাল্টা সামরিক আক্রমণ—পাক-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
তবে এই সংঘর্ষের মাঝেও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল থেকে যেটা সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত—তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা। বিশেষত, অতীতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার মধ্যস্থতা ও উত্তেজনা প্রশমনের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। কিন্তু এবার ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসেছে খুবই সীমিত প্রতিক্রিয়া, যা বিশ্ব বিশ্লেষকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতির কারণেই এই নিষ্ক্রিয়তা। ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক কূটনৈতিক নীতিতে আগ্রহ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্লিপ্ত আচরণ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে বলেও মত বিশ্লেষকদের।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ড. রুহুল আমীন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি এভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তবে আঞ্চলিক শক্তিগুলো আরও আগ্রাসী হতে পারে। এর ফল ভোগ করতে হতে পারে সাধারণ মানুষকে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তবে মার্কিন নিষ্ক্রিয়তা যে এক নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা এখনই মাথায় রাখার সময় এসেছে।
Leave a Reply