সিলেট নগরীর লামাবাজার এলাকায় ফজরের নামাজের পর চায়ের দোকান খোলার কারণে এক গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জসিমের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ওই ব্যক্তি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হন। বর্তমানে তিনি সিএনজি চালাতে না পারায় জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজের পর দোকান খুললে এসআই জসিম এসে ক্ষুব্ধ হয়ে জিজ্ঞেস করেন, “এতো সকালে দোকান খোলা কেন?” এরপর কোনো কারণ না শুনেই শুরু করেন বেধড়ক মারধর।
আহত ব্যক্তি পুলিশ সদস্যদের জানান, “আমি একজন গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা। আন্দোলনে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় বসে থাকতে পারি না, তাই এই দোকান দিয়েছি। আমাকে জেলে দিলে পরিবার না খেয়ে মরবে।”
এ কথার জবাবে এসআই জসিম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “তুই যোদ্ধা! তোরা তো পুলিশ মারছিস, ফাঁড়ি জ্বালাইছিস”—এই বলে কিল, ঘুষি, থাপ্পড় মারতে মারতে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন।
এ সময় সঙ্গে থাকা এক কনস্টেবলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা আহত ব্যক্তিকে রাস্তায় ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বর্তমানে আহত ব্যক্তি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, সিলেট জেলা কমিটি এবং জুলাইযোদ্ধাদের সহযোদ্ধারা। তারা বলেন,
“একজন রাষ্ট্রস্বীকৃত যোদ্ধার সাথে এমন অমানবিক আচরণ দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। দোষী পুলিশ সদস্যদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
Leave a Reply