ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। সরকারি দায়িত্বে থেকেও রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতির মুনাফা ও দম্ভপূর্ণ আচরণে আলোচিত-সমালোচিত এই কর্মকর্তা এখন জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, রেজাউল করিম শুধু ঈশ্বরগঞ্জেই নয়, অতীতে অন্যান্য জেলায় কর্মকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার নামে থাকা অঢেল সম্পদের উৎস তদন্ত করলেই এসব দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আসবে বলে দাবি স্থানীয়দের।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সিঙ্গাপুর প্লাজার পশ্চিম পাশে একটি বহুমূল্য বাড়ি এবং ময়মনসিংহ শহরের আকুয়া র্যাব অফিসের পেছনে প্রায় ২৬ শতাংশ জমির মালিক তিনি। এই সম্পদের প্রকৃত উৎস নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। নামে বেনামে জমি ক্রয় করার অভিযোগ ও রয়েছে।
গফরগাঁওয়ের হারুন জানান,এই রেজাউল করিম পিআইও কতটুকু খারাপ তা তদন্ত বেড়িয়ে আসবে। তিনি সাবেক আওয়ামী লীগের দূসর এমপি বাবেল গোলন্দাজকে হাত করে কয়েক কোটি টাকা বানিজ্য করেছেন।বাবেল গোলন্দাজ তার ঘনিষ্ঠ বলে বিভিন্ন প্রকল্পে নিজের লোক দিয়েই ঠিকাদারি করিয়েছে।
সম্প্রতি ময়মনসিংহে তার বাসার এক ভাড়াটিয়াকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি একটি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রতিবাদ করলে রেজাউল করিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপরও চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও, ঘটনাটি তদন্ত করতে গেলে ময়মনসিংহ নগরীর ৩ নম্বর ফাঁড়ির এসআই সোহেল রানা রেজাউল করিমের রোষানলে পড়েন। জানা যায়, তদন্ত ধামাচাপা দিতে রেজাউল করিম শুরু করেন দৌড়ঝাঁপ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা।
অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকরা তার অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গালমন্দ করে ধুরমিয়া বলে ফোন কেটে দেন।
স্থানীয় সচেতন মহল রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
(পার্ট-১, চলবে…)
Leave a Reply